শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ - ১৯:১৮
কেন শেষ যুগে আল্লাহর পরীক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন হবে?

শেষ যুগে ঈমান রক্ষা করা হবে অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা; হাদিসে এটিকে হাতের তালুতে জ্বলন্ত আগুন ধরে রাখার মতো কষ্টকর বলে উপমা দেওয়া হয়েছে। মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও উপলব্ধি যত বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহর কাছে তার দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাও তত বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের পর মানুষের কাছ থেকে দ্বীনের বিধান পালনে আরও গভীর সতর্কতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করা হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা মুহাম্মাদী শেষ যুগে আল্লাহর পরীক্ষার প্রকৃতি ও কঠোরতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এই যুগে ঈমান ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রশ্ন: শেষ যুগের মানুষের ওপর আল্লাহর পরীক্ষা কি পূর্ববর্তী যুগের মানুষের পরীক্ষার তুলনায় ভিন্ন? নাকি এসব পরীক্ষার কঠিনতা ও তীব্রতা আগের যুগের মতোই থাকবে?

উত্তর: হ্যাঁ, শেষ যুগের পরীক্ষা নিঃসন্দেহে আরও কঠিন হবে।

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, “শেষ যুগে ঈমান ধরে রাখা হাতের তালুতে জ্বলন্ত আগুন ধরে রাখার চেয়েও কঠিন হবে।”

এক ব্যক্তি ইমাম (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান! তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের ঈমান রক্ষা করতে পারব?”

ইমাম (আ.) তাকে এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করার নির্দেশ দেন, ইয়া আল্লাহ, ইয়া রহমান, ইয়া রহীম, ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবি আলা দীনিক

অর্থ: “হে আল্লাহ! হে পরম দয়াময়! হে অসীম করুণাময়! হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।”

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর স্মরণ (জিকির) ও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ঈমানকে রক্ষা করতে পারে।

ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের পর জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের পর এমন অনেক বিষয়, যেগুলো পূর্বে মানুষের অজ্ঞতা, দুর্বলতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে কিছুটা ক্ষমাযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতো, তখন আর সেগুলো উপেক্ষা করা হবে না। কারণ তখন মানুষের সামনে সত্য আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে এবং দ্বীনের প্রতি আনুগত্যের মানদণ্ড আরও উচ্চতর হবে।

আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের ওপর হুজ্জত (সত্যের পূর্ণ প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মানুষের অজ্ঞতা দুই ধরনের হতে পারে—
১. জাহলে কাসির (অক্ষমতাজনিত অজ্ঞতা): যে ব্যক্তি জানার সুযোগ পায়নি বা বাস্তবিকভাবে সত্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার অজ্ঞতা একটি গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে।

২. জাহলে মুকাসসির (অবহেলাজনিত অজ্ঞতা): যে ব্যক্তি জানার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অবহেলা করে, সত্য অনুসন্ধান করে না বা নিজের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করে। এ ধরনের অজ্ঞতার জন্য জবাবদিহিতা বেশি হবে।

শেষ যুগে মানুষের কাছে জ্ঞান, তথ্য ও সত্যের পরিচয় পাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি থাকবে। তাই তখন অজ্ঞতার অজুহাত আগের মতো গ্রহণযোগ্য হবে না; বরং অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে দায়িত্ব আরও কঠিন হবে।

এ কারণেই ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, শেষ যুগে ঈমান অটুট রাখা সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হবে। আর এই পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি এবং দ্বীনের ওপর দৃঢ় থাকা অপরিহার্য।

কেন শেষ যুগে আল্লাহর পরীক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন হবে?

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha